রমজান শুরুর আগেই নিন রমজানের প্রস্তুতি; ৯ টিপস

published : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

আপনি কি জানেন, রমজানকে কেন ফসল ঘরে তোলার মাস বলা হয়? 

ধরুন, একজন কৃষক প্রথমে জমি প্রস্তুত করে, বীজ বোনে, নিয়মিত পানি দেয়, আগাছা পরিষ্কার করে। তারপর সুনির্দিষ্ট মৌসুমে ফসল কেটে ঘরে তোলে। ঠিক তেমনি একজন বিশ্বাসী সারা বছর সৎকর্ম ও আত্মশুদ্ধি চর্চার মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করে এবং রমজানে সেই ফসল সংগ্রহ করে। 

অর্থাৎ বিষয়টা এমন নয় যে, রমজান এলে তারপর ইবাদত শুরু করতে হবে! 

বরং এর মর্মার্থ- সারা বছর যে নিয়ত, আমল ও আত্মশুদ্ধির বীজ আপনি বপন করেছেন, রমজান আপনাকে সে-ই ফসল বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

সাহাবীরা রমজানের ছ’মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে থাকতেন। তারা প্রথম ছ’মাস দোয়া করতেন যাতে রমজান পর্যন্ত তাদের পৌঁছানো হয় এবং পরের ছ’মাস রমজানের আমল কবুল হওয়ার দোয়া করতেন।  

বোখারী ও মুসলিম শরীফে সংকলিত এবং আবু হুরায়রা (রা) বর্ণিত একটি হাদীসের অংশবিশেষ হলো—‘…রোজা হচ্ছে (পাপাচার ও জাহান্নামের আগুনের বিরুদ্ধে) বর্ম। অতএব তোমরা যখনই রোজা রাখো, তখন ফালতু আজেবাজে অপ্রয়োজনীয় কথা বলবে না, চেঁচামেচি করবে না। কেউ গালি দিলে বা ঝগড়া করতে এলে বলবে, আমি রোজাদার।..’ (বোখারী, মুসলিম)

কিন্তু আপনি যদি সারা বছর চেঁচামেচি করে তেতে মেতে থেকে ডিজিটাল আসক্তিতে অতিবাহিত করে থাকেন তাহলে এখনই সময় নিজেকে পরিবর্তন করার, দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করার। 

তাহলে চলুন কীভাবে রমজানের প্রস্তুতি নেবেন তা জেনে নিইঃ 

১. টু-ডু লিস্ট তৈরি করুন

একটি চেকলিস্ট তৈরি করুন। রমজানে কী কী সৎকর্ম করতে চান সেগুলো লিস্ট আকারে লিখুন। 

যেমন- ৩০ দিনের জন্যে ৩০ টি দোয়া, সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিদিন দান, সম্পর্ক উন্নয়ন, যে-কোনো একটি আসক্তি বর্জনের সিদ্ধান্ত- স্ক্রিনাসক্তি, সিগারেট, সফট/কোল্ড ড্রিংক্স, চিনি, সমস্ত বাহুল্য, ভুরিভোজ ইত্যাদি)।   

২. নামাজে ধারাবাহিক হোন

রমজানে যেহেতু তারাবিহ ও তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা সুন্নত, তাই আগেই এর প্রস্তুতি নিতে হবে। এজন্যে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মনোযোগী হোন।

এবং এখন থেকেই ফজরের একটু আগে ওঠার চেষ্টা করুন। 

৩. সৎকর্মের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন 

রমজানে যে সময়ে কোরআন পড়তে পারবেন, এখন থেকেই প্রতিদিন সেই নির্দিষ্ট সময়ে পড়তে বসুন। নিয়মিত দান করার প্র্যাকটিস করুন কোয়ান্টাম মাটির ব্যাংকে দান করে। 

রসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়।

তাই প্রতিদিন কী কী এবং কতটুকু সৎকর্ম করতে পারবেন তা ঠিক করুন।

৪. পবিত্র কোরআন বুঝে পড়ুন 

রমজান কোরআন নাজিলের মাস। রমজানে কোরআন পাঠের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। তাই বলে রমজান শুরু হওয়ার অপেক্ষা করবেন না। বরং এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন। বর্তমান সমাজের জাহেলিয়াত থেকে মুক্তি পেতে, পরিত্রাণ পেতে, শেফা ও রহমত লাভের জন্যে পবিত্র কোরআন বুঝে পড়ুন, নিজ ভাষায় পড়ুন। 

সহজে বুঝতে চাইলে প্রতিদিন আল কোরআনের বাংলা মর্মবাণী পড়ুন, কোয়ান্টাম মেথড অ্যাপস থেকেও পড়তে পারেন। যত আপনি কোরআনের গভীরে ডুবে যাবেন, তত আপনার দেহমন আত্মার নিরাময় হতে থাকবে। 

৫. নিয়মিত খতমে কামালি করুন 

ঘরে বসেই খতমে কামালিতে অংশ নিতে পারেন। কোয়ান্টাম অ্যাপস থেকে সহজেই আপনি এই আমলে অংশ নিতে পারবেন। 

৬. কোয়ান্টায়ন করুন

কোয়ান্টায়ন হলো মৌন বা নীরব থেকে নিজের ভেতর ডুবে যাওয়া। রমজানের আগে হৃদয় পরিশুদ্ধ ও হালকা হওয়া জরুরি, যা আপনি পাবেন কোয়ান্টায়নের মাধ্যমে। 

কোয়ান্টাম সদস্য হলে আপনি প্রতি মাসেই আপনার নিকটবর্তী কোয়ান্টাম শাখায় এই চর্চা করতে পারবেন। সদস্য না হলে বাসায় বসে নিজে নিজে করতে পারেন। এজন্যে দিনের কোনো একটি সময় নিরিবিলি স্থানে ৩/৪ ঘণ্টা পুরোপুরি নীরব থাকুন। এমনকি মনে মনে কথা বলাও পরিহার করুন। কিছুদিন এই চর্চা করলে দেখবেন নিজের ভেতর ডুবতে পারছেন।

একটা ফাঁকা কলসিকে যেমন পানিতে পূর্ণ করা যায়, ঠিক তেমনি ফাঁকা হৃদয় থাকলে পুরো রমজানের ফসলটাই আপনি আমলনামায় যুক্ত করতে পারবেন।

৭. পরিমিত আহারের অভ্যাস করুন

পরিমিত খাবারগ্রহণের চর্চা করুন আজ থেকেই। দু-বেলা চা খেলে একবেলায় নিয়ে আসুন। ভরপেটের বদলে পেট কিছুটা খালি রাখার অভ্যাস করুন। সাথে কোয়ান্টাম ব্যায়াম নিয়মিত করুন। 

এখন থেকেই পরিমিত আহার ও কোয়ান্টাম ইয়োগার অনুশীলন রোজার সময়টাতে আপনাকে রাখবে শারীরিকভাবে ফিট ও কর্মক্ষম।

৮. আসক্তিমুক্ত হোন 

রমজান শুধু উপবাসে থাকার মাস নয়, আসক্তি বর্জনেরও মাস। তাই আজ থেকেই অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম ও প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুঁ মারা বন্ধ করুন। 

ক্ষতিকর আবেগ নিয়ন্ত্রণ রাখার চর্চা করুন। রাগ নিয়ন্ত্রণ, গীবত ও দুর্ব্যবহার বর্জন করুন। মিথ্যা পুরোপুরি বর্জন করার চেষ্টা করুন। 

৯. ঈদের কেনাকাটা শবে-বরাতের আগেই করুন

রমজানের প্রতিটা সেকেন্ডই নেকি বৃদ্ধির জন্যে গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই মাহাত্ম্যপূর্ণ সময়টা কেনাকাটায় অপচয় না করে আগেই কেনাকাটা সেরে নিন। 

আপনি বলবেন, ঈদের সময় যে কাপড় বাজারে আসে সেটাই তো ‘লেটেস্ট’! একদম বোগাস! অনেক সময় পুরনো জিনিসও দোকানিরা বলে- ‘লেটেস্ট’! এই যে আপা… এই তো দুইদিন আগেই আসছে...! 

তাই সবসময় ঈদের বাজার করুন রমজান, সম্ভব হলে শবে বরাতের আগে।

ঈদের জন্যে ঘর পরিষ্কারের কাজটিও আপনি রমজানের দুদিন আগেই করে ফেলুন। অর্থাৎ ঈদের সময় আপনি যে সেট-আপে ঘরের আসবাব রাখতে চান সেটি আগেই করুন।

আপনার সময় বাঁচবে, ইবাদতে মনোযোগও বাড়বে।

আসলে রমজানের প্রকৃত বরকত পেতে চাইলে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি। আপনার প্রস্তুতি পূর্ণ হলেই রমজান হতে পারে আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ আত্মশুদ্ধির মাস।