রমজানে বেশি বেশি সওয়াব পেতে কিছু করণীয়

published : ১৪ মার্চ ২০২৫

ধরুন, আপনি এমন একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন, যেখানে সাধারণভাবে ওভারটাইমের ঘোষণা দেয়া হয়েছে, অথচ শ্রমিকরা কেউই বাড়তি কাজে উদ্বুদ্ধ হয় নি। কিন্তু যখন বলা হলো, ওভারটাইমের পারিশ্রমিক দ্বিগুণ বা তিনগুণ, তখন আপনি কী করবেন? নিশ্চয়ই উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়েবাড়তি কাজ করবেন!  

তাহলে আপনার উচিত হবে রমজানে বাড়তি ইবাদত করা। কারণ রমজান এমন একটি মাস, যে মাসে আল্লাহর পক্ষ থেকে ওভারটাইম সৎকর্মের প্রতিদান ৭০ গুণ! 

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “অন্য যে-কোনো সময় কেউ যদি কোনো ভালো কাজ করে তাহলে এই কাজের বিনিময় আমি ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দিই। কিন্তু রমজান মাসে যে রোজা রাখে তার বিনিময় আমি কোনো হিসাব করে দিই না। এটার কোনো সীমা-সংখ্যাও আমি ঘোষণা করি নি এবং এটা আমি অন্য কোনো ফেরেশতার দায়িত্বেও দিয়ে দিই নি। এই কাজটির ফল আমি নিজ হাতে বান্দার প্রয়োজন অনুসারে আমার ইচ্ছেমতো প্রদান করবো।" [হাদীসে কুদসি]

রমজান মাসে নেমে পড়ুন আটঘাট বেঁধে! আপনার জন্যে থাকছে কিছু টিপস থাকছে, যা আপনাকে এই পবিত্র মাসে বেশি বেশি সওয়াব অর্জনে সহায়তা করবে। 

১. কোরআন অনুশীলন করুন

রমজান কোরআন নাজিলের মাস। কোরআন নাজিল যখন সম্পন্ন হলো তখন আল্লাহ ঘোষণা করলেন- আজ তোমাদের জন্যে তোমাদের ধর্মবিধানকে পূর্ণাঙ্গ করলাম। তোমাদের ওপর আমার নেয়ামতকে পরিপূর্ণ করে দিলাম। (সূরা মায়েদা, আয়াত ৩) 

কোরআন নাজিলের উসিলায় রমজান মাসকে আল্লাহ বাকি এগারো মাসের তুলনায় অনেক মর্যাদাবান করেছেন। 

তাই রমজানে বেশি বেশি কোরআন চর্চা করুন। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন প্রকাশিত কোরআন শরীফ বাংলা মর্মবাণী আপনাকে এনে দেবে একই সাথে কোরআন পড়ার সওয়াব, সেই সাথে সহজে বোঝার ও উপলব্ধি করার সুফল। 

কোরআন নিজে পড়ার মতোই সওয়াবের হলো কোরআন শ্রবণ। আমাদের ‘রমজান’ সাইটে কোরআন বাংলা মর্মবাণীর সবগুলো পারার অডিও আপলোড করা আছে। প্রতিদিন রাত ১১টায় বা সুবিধামতো যে-কোনো সময়ে এক পারা করে কোরআন মর্মবাণী শ্রবণ করুন। 

লিংক : ramadan.quantummethod.org.bd/bn/quran-mormobani   

২. চারপাশের ৪০ ঘরে ছড়িয়ে দিন

কোরআনের জ্ঞান নিজে জানা যেমন ফরজ, অন্যকে জানানোও একইরকম গুরুত্বপূর্ণ। হাদীসে আছে, সাহাবীরা একটি নতুন আয়াত শোনার পর দৌড়াদৌড়ি শুরু করতেন কে কার আগে কত মানুষের কাছে এ বাণীকে পৌঁছে দিতে পারেন! 

তাই রমজানের বিশেষ আমল হিসেবে যতগুলো সম্ভব কোরআন মর্মবাণী পরিচিতদের মধ্যে মূল্যের বিনিময়ে বিতরণ করুন বা উপহার দিন। 

৩. তারাবিহ নামাজ আদায় করুন

তারাবিহ নামাজ আদায় করা রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। মক্কা ও মদীনা শরীফে সাহাবায়ে কেরামের যুগ হতে আজ পর্যন্ত ২০ রাকাত তারাবিহ খতমে কোরআনসহ জামাতের সঙ্গে পড়া হয়।

তাই চেষ্টা করুন যেখানে খতম তারাবি হয় সেখানে তারাবিহ নামাজ আদায়ে। নামাজের সওয়াব তো আছেই, সাথে পাবেন সঙ্ঘবদ্ধভাবে কোরআন খতমের বাড়তি নেকি।  

৪. রোজাদারকে ইফতার করান

রোজদারকে ইফতার করানো অনেক সওয়াবের কাজ। ছোট্ট একটি খেজুর বা পানি দিয়ে হলেও ইফতার করানো আল্লাহর নিকট প্রিয় একটি আমল।

জায়েদ ইবনে খালেদ (রা) থেকে বর্ণিত- একজন রোজাদারকে ইফতারের সময় যে আহার করাল, রোজা রাখার সমান সওয়াব সে পাবে, কিন্তু তাতে রোজাদারের সওয়াবে কোনো ঘাটতি হবে না। (তিরমিজী)

৫. বেশি বেশি দান করুন

রমজানে দান শ্রেষ্ঠ দান। —আনাস ইবনে মালেক (রা); তিরমিজী

রসুলুল্লাহ (স) রমজানে বেশি বেশি দান করতেন। তিনি এ-মাসে কারও উপকার করা, কল্যাণ করা, সমস্যা দূর করা, অভাব মোচন করার জন্যে কাজ করাকে এতেকাফের চেয়েও অনেক বেশি সওয়াবের কাজ বলে বর্ণনা করেছেন।

রমজানে খাবারের ব্যাপারে শুদ্ধাচারী হলে আপনি অনায়াসেই কিছু অর্থ সাশ্রয় করতে পারবেন এবং এই অর্থ দান করে বাড়তি সওয়াবের অধিকারী হতে পারবেন। 

৬. লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করুন

যে রাতে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে, সে রাতই লাইলাতুল কদর। আল্লাহ তায়ালা লাইলাতুল কদরকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ, হাজার মাস ইবাদত করে আপনি যে সওয়াব পাবেন, তারচেয়ে বেশি সওয়াব পাবেন কদরের রাতে ইবাদত করে। 

নবীজী (স) রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে বলেছেন। 

তাই রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর খুঁজুন। বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও তওবা-ইস্তেফার করুন। 

নবীজী (স) এসময় বেশি বেশি এই দোয়াটি করতে বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল। তুমি ক্ষমা করতে ভালবাসো। আমায় ক্ষমা করো।’
—আয়েশা (রা); তিরমিজী

৭. সঙ্ঘবদ্ধভাবে ইবাদত করুন

সঙ্ঘবদ্ধ ইবাদতের সওয়াব একাকী ইবাদতের ৭০ গুণ। তাই চেষ্টা করুন রমজানে জামাতে নামাজ আদায় করতে। এছাড়াও, যেসব আমল একসাথে করা যায় সেগুলো একসাথে করুন। 

হাদীস সাইটে প্রতিদিন বিকাল ৫.২৫ মিনিটে হাদীস পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হাদীস শরীফ বাংলা মর্মবাণী ও বিশ্লেষণ এবং আল কোরআনের দোয়া থাকে। দেশ ও দেশের বাইরে হাজারো মানুষ শামিল হয় এতে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে আপনিও অংশ নিন রমজানের এই বিশেষ আমলে।

লিংক : https://hadith.quantummethod.org.bd/bn/hadiths    

৮. রক্তদান করুন 

আপনি রক্তদাতা হয়ে থাকলে রমজানে রক্ত দিন। রোজা রেখে রক্ত দেয়া যায়। 

আপনার রক্ত দিন কোয়ান্টাম ব্লাড ল্যাবে। কারণ এখানে এক ব্যাগ রক্ত থেকে ৪টি রক্ত উপাদান পৃথক করে যার যেটা প্রয়োজন তাকে সেই উপাদানটি দেয়া হয়। কাজেই এক ব্যাগ রক্তদান ৪টি জীবন বাঁচানোর সমান কল্যাণের। 

রমজান মাসে এই একই কাজ ৪X৭০, মানে ২৮০টি জীবন বাঁচানোর সমান!

৯. যাকাত আদায় করুন 

এক চান্দ্রমাস হিসাব করে বছরের যে-কোনো সময় যাকাত দেয়া গেলেও রমজানে দিলে আপনি পাবেন ৭০ গুণ সওয়াব। আর কোয়ান্টাম যাকাত ফান্ডে দিলে পাবেন সঙ্ঘবদ্ধভাবে যাকাত আদায় করার জন্যে আরো ৭০ গুণ নেকি!

অর্থাৎ, রমজানে কোয়ান্টাম যাকাত ফান্ডে যাকাত দিলে আপনি পাবেন ৭০X৭০ = ৪,৯০০ গুণ সওয়াব!   

১০. পুরো বছরের দান একত্রে জমা দিন 

আপনি হয়ত এতিমান, সঙ্ঘদান বা অন্য কোনো খাতে প্রতি মাসেই দান করে থাকেন। রমজানের পরেও আপনি এই মাসিক অনুদান দিতে পারেন। তবে আপনি চাইলেই কিন্তু একটু কৌশলী হতে পারেন! 

কীভাবে?

আর্থিক সচ্ছলতা থাকলে আপনি আপনার বছরের বাকি সময়ের দান একসাথে এই রমজানে জমা দিন। 

রমজানের পরে তো আপনি দিতেনই। কিন্তু রমজানে দেয়ার ফলে আপনি পাচ্ছেন ৭০ গুণ বেশি সওয়াব!