শিশুর মেধা বাড়ানোর খাবার ৫টি সহজলভ্য সুপারফুড—সন্তানকে দিচ্ছেন তো?

published : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

সন্তানকে জাঙ্ক ফুড এবং প্রসেসড ফুড খাওয়াবার বিপদ সম্পর্কে আমরা জানি। তাহলে প্রশ্ন হলো তাকে খাওয়াবেন কী? বা কী খেতে উৎসাহিত করবেন?

এমন ৫টি খাবারের কথা জানুন, যা খাওয়ালে সন্তান হবে শক্তিশালী, বুদ্ধিদীপ্ত ও মেধাবীঃ

[আর্টিকেলটির ভিডিও এডাপ্টেশন দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন]

১. কাঠবাদাম ও আখরোট

বিশ্বের ১০০০টি খাবার থেকে ১০০টি খাবারকে সবচেয়ে পুষ্টিকর হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের গবেষকরা। কাঠবাদাম বা Almond সেই তালিকার একদম প্রথমেই ছিল।কাঠবাদামে আছে প্রচুর ভিটামিন ই যা ব্রেনের গঠনের জন্যে খুব উপকারি।

৮-১০টি কাঠবাদামে যে পরিমাণ ভিটামিন ই আছে তাতেই একজন মানুষের সারাদিনের ভিটামিন ই-র অভাব পূরণ হতে পারে।

মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্যে আখরোটও খুবভালো। এতে আছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড। ব্রেনের বাড়তি প্রোটিন ঝরিয়ে স্মৃতিকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করে আখরোট। 

মজার ব্যাপার হচ্ছে আখরোট দেখতেও কিন্তু ব্রেনের মতো!

২. মিষ্টি আলু

দামি খাবারের পর এবারে একেবারে সস্তা খাবার- মিষ্টিআলু! এই একটি খাবার থেকে আপনি পেতে পারেন বহু উপকার।

ভিটামিন এ ছাড়াও মিষ্টি আলুতে আছে প্রচুর ফাইবার বা আঁশ। প্রসেসড খাবারের দৌরাত্মে এখন আমাদের খাবার থেকে আঁশ প্রায় নাই হয়ে গেছেই বলা যায়।

সেই সাথে এন্টিঅক্সিডেন্ট। এন্টিঅক্সিডেন্ট দেহে ফ্রির‍্যাডিকেল দূর করতে সাহায্য করে যা ক্যান্সার রোধী। গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত মিষ্টি আলু খায় তাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার ও প্রোস্টেট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

মিষ্টি আলু যে সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্যের জন্যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার বাস্তব উদাহরণ ওকিনাওয়া দ্বীপের মানুষ। এদের গড় আয়ু প্রায় ১০০ বছরই শুধু না, জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত তারা থাকে সুস্থ ও কর্মক্ষম। গবেষকেরা তাদের এই দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার পেছনে যে কয়টি বিষয়কে চিহ্নিত করেছেন তার একটি হলো মিষ্টি আলু। ওকিনাওয়ার অধিবাসীদের খাবারের মেন্যুতে থাকে এই মিষ্টি আলু। 

যেভাবে খেতে পারেন-

সেদ্ধ করে চাক চাক করে কেটে তাওয়ায় হালকা একটু তাপে রুটির মতো একটু বেক করে নিতে পারেন। তারপর একটু দারচিনি গুঁড়ো ছিটিয়ে বা বাচ্চা ঝাল পছন্দ করলে গোলমরিচ গুঁড়া ছিটিয়ে খেতে দিতে পারেন।

৩. টক দই

ইয়োগার্ট বা টক দইয়ে আছে প্রোবায়োটিক বা উপকারি ব্যাকটেরিয়া যা পাকস্থলীকে সুস্থ রাখে। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে টক দই উদ্বেগ এবং বিষণ্নতা হ্রাস করতে পারে।

দুই বা তিন টেবিল চামচ ইয়োগার্টে এক টেবিল চামচ মধু বা তাজা কোনো একটা ফলের কয়েক টুকরো দিয়ে খেতে দিতে পারেন।

৪. মটরশুঁটি

সেরা ১০০ খাবারের তালিকায় মটরশুঁটিও ছিল। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, মিনারেল এবং দ্রবণীয় ভিটামিন- কী নেই মটরশুঁটিতে! 

শীতে যখন মটরশুঁটির সিজন, তখন একমুঠো মটরশুটি সেদ্ধ করে বাচ্চাকে খেতে দিন। বাচ্চা পছন্দ করবে। 

সিজন যখন থাকে না, তখনকার জন্যে অনেকে রেফ্রিজারেট করে রাখেন মটরশুঁটি। সুযোগ থাকলে সেটাও করতে পারেন।

৫. পালং শাক 

পালং শাকে আছে ভিটামিন এ, ম্যাগনেসিয়াম ও ফোলেট, যা ব্রেন গঠনে সাহায্যকরে। এছাড়া আছে এন্টিঅক্সিডেন্ট যা ব্রেন সেলের ড্যামেজ প্রতিরোধ করে। 

গ্রীন জুস হিসেবে বা সালাদে ব্যবহার করতে পারেন। অথবা অল্প তেলে অল্প সময় ধরে রান্না করে ভাতের সাথে খেতে দিতে পারেন।

এছাড়া বাচ্চাদের জন্যে ডিম, দুধ, মোসুমী ফলও খুব উপকারি। তবে ফলের জুস, এমনকি তাজা ফল থেকেও যা তৈরি করেন, না দিয়ে আস্ত ফল খেতে অভ্যস্ত করুন। এতে বাচ্চার দাঁত মজবুত হবে, সে পাবে বাড়তি পুষ্টিও।

আজ থেকেই বাচ্চাকে খাবারগুলো দিন। ফাস্টফুড জাংকফুড চিপস চকলেট আইসক্রিমের বদলে দেয়া এই স্বাস্থ্যকর খাবারগুলো তাকে করবে শক্তিশালী, বুদ্ধিদীপ্ত ও মেধায় শানিত।